Home খবর সাইপ্রাসের শেনজেন সদস্যপদ নিয়ে শিগগিরই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইউরোপীয় কমিশন

সাইপ্রাসের শেনজেন সদস্যপদ নিয়ে শিগগিরই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইউরোপীয় কমিশন

0
13

নিকোসিয়া: শেনজেন অঞ্চলে যোগদানের লক্ষ্যে সাইপ্রাসের অগ্রগতি নিয়ে ইউরোপীয় কমিশন শিগগিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই প্রতিবেদনকে সাইপ্রাসের সম্ভাব্য শেনজেন সদস্যপদের পথে বড় একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স (JHA) কাউন্সিল বৈঠকের পর ইউরোপীয় কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সাইপ্রাসের শেনজেন অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তি শুধু দেশটির জন্য নয়, বরং সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। তবে সাইপ্রাস কখন শেনজেনের পূর্ণ সদস্য হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল গ্রহণ করবে।

ব্রুনার জানান, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সাইপ্রাস শেনজেনের সব নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ করেছে কিনা তা নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যে কমিশন দেশটির প্রস্তুতি মূল্যায়ন করেছে এবং খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

২০২৬ সালের মধ্যে শেনজেনে যোগদানের লক্ষ্য

সাইপ্রাসের বিচারমন্ত্রী কোস্তাস ফিতিরিস বলেন, ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পর থেকেই দেশটি শেনজেন সদস্যপদের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তার মতে, ইউরোপীয় কমিশন ও বিভিন্ন ইইউ সংস্থার সহায়তায় সাইপ্রাস ইতোমধ্যে শেনজেন অ্যাকুইস (Schengen Acquis)-এর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করেছে। দেশটিকে দেওয়া ১২০টিরও বেশি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

ফিতিরিস আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সাইপ্রাস শেনজেন অঞ্চলে যোগদানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, “আমরা যে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি, সেটি আমাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেবে এবং সাইপ্রাসকে শেনজেনের পূর্ণ সদস্যপদের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।”

শেনজেন সদস্যপদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শেনজেন অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থাগুলোর একটি। এতে অন্তর্ভুক্ত ২৯টি ইউরোপীয় দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নেই, ফলে সদস্য দেশগুলোর নাগরিক ও বৈধ ভ্রমণকারীরা সহজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করতে পারেন।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে কেবল সাইপ্রাস ও আয়ারল্যান্ড শেনজেন অঞ্চলের বাইরে রয়েছে। আয়ারল্যান্ড নিজস্ব সীমান্ত নীতির কারণে বাইরে থাকলেও সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ধরে শেনজেন সদস্যপদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ১৯৭৪ সাল থেকে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভক্ত ভূখণ্ডের বাস্তবতা সাইপ্রাসের শেনজেন অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। তা সত্ত্বেও দেশটি ২০২৬ সালে শেনজেন সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here