তুর্কি সাইপ্রাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পুনর্মিলনপন্থী প্রার্থী তুফান এরহুরমান বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। মধ্য-বাম দল সিটিপির (CTP) এই নেতা বর্তমান নেতা এরসিন তাতারকে পরাজিত করে তুর্কি সাইপ্রাসের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

৫৫ বছর বয়সী আইন প্রফেসর এরহুরমান ৬২.৮% ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী তাতারের ৩৫.৮% ভোটকে অনেক পিছনে ফেলেন। এটি তুর্কি সাইপ্রাসের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এরহুরমান ২০১৩ সাল থেকে তুর্কি সাইপ্রাসের সংসদে কাজ করে আসছেন এবং শিগগিরই রাজনৈতিক দল সিটিপির নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন, কারণ দেশের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা নিষিদ্ধ।


কিজিলবাস পার্কে হাজার হাজার মানুষ

ঐক্যের বার্তা ও নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর, উত্তর নিকোসিয়ার কিজিলবাস পার্কে হাজারো সমর্থকের সামনে তিনি বলেন,

“এই নির্বাচন জয়-পরাজয়ের নয়, তুর্কি সাইপ্রাসের জনগণের জয়।”

তিনি তার প্রচারণায় অংশ নেওয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানান এবং বলেন,

“আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে অসম্ভব কিছু নেই। একসাথে আমরা তুর্কি সাইপ্রাসের ভবিষ্যৎ গড়ব।”

এরহুরমান আরও বলেন,

“আমি এই ভূমি ও এই দেশের সন্তানদের কখনও ছেড়ে যাব না। তুর্কি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট হতে পেরে আমি গর্বিত।”


কিজিলবাস পার্কে হাজার হাজার মানুষ

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

তুফান এরহুরমানের এই বিজয় এসেছে এমন এক সময়ে যখন সাইপ্রাস পুনর্মিলনের প্রশ্নে তীব্র আলোচনা চলছে। আগের পাঁচ বছরে তাতার প্রশাসন ফেডারেল সমাধানভিত্তিক আলোচনা থেকে বিরত ছিল। এরহুরমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় পুনরায় যোগ দেবেন।

নির্বাচনের পর তিনি ঘোষণা দেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এরপর তিনি জাতিসংঘের নতুন প্রতিনিধি খাসিম ডায়ান এবং রাষ্ট্রদূত মারিয়া অ্যাঞ্জেলা হোলগুইন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এই সাক্ষাৎগুলো সাইপ্রাস সমস্যার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সূত্র: তুর্কি সাইপ্রাস নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here