সাইপ্রাস ইতিমধ্যে ২০২৫ সালে ১০,০০০-এরও বেশি অনিয়মিত অভিবাসীর প্রত্যাবর্তন রেকর্ড করেছে, যা গত বছরের ১০,০৯২ জন ফেরতের সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. নিকোলাস এ. আইওনাইডস।
🇪🇺 শেনজেন চুক্তির ৪০তম বার্ষিকীতে বক্তব্য
ইউরোপীয় সংসদ ও ইউরোপীয় কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শেনজেন চুক্তির ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আইওনাইডস বলেন —
“গত আড়াই বছরে সাইপ্রাসে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় আগমন ৮৭% কমেছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গৃহীত সমন্বিত পদক্ষেপের ফল।”
তিনি আরও বলেন, সাইপ্রাস সরকার শেনজেন অঞ্চলে যোগদানের লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং এই পদক্ষেপকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।
🧭 শেনজেন অন্তর্ভুক্তির পথে অগ্রগতি
উপমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যে শেনজেন মানদণ্ড পূরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছি যাতে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তি যত দ্রুত সম্ভব সম্ভব হয়।”
🤝 ইইউ কাউন্সিল প্রেসিডেন্সির আগে কূটনৈতিক বৈঠকসমূহ
আসন্ন ইইউ কাউন্সিলের সাইপ্রাস প্রেসিডেন্সি সামনে রেখে, ড. আইওনাইডস ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সেখানে আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে ছিল:
- নিরাপদ দেশ ও নিরাপদ তৃতীয় দেশগুলোর ধারণা জোরদার করা
- ইইউ রিটার্ন রেগুলেশন বাস্তবায়নের কার্যকারিতা বৃদ্ধি
- অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা
🗣️ ইইউ’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি
উপমন্ত্রী আরও বলেন,
“সাইপ্রাস সরকার ইইউ প্রেসিডেন্সির সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং মূল নীতিমালা অগ্রসর করতে ইউরোপীয় সংসদ ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়।”
তিনি সাইপ্রাসের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গেও পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন এবং অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে একীভূত কৌশল গঠনের আহ্বান জানান।
📊 উপসংহার:
২০২৫ সালের শুরু থেকেই সাইপ্রাসে অভিবাসন পরিস্থিতি অভূতপূর্বভাবে স্থিতিশীল হচ্ছে। সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপের ফলে অনিয়মিত প্রবেশ কমেছে এবং সফলভাবে দশ হাজারেরও বেশি প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশটি এখন শেনজেন অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তির দ্বারপ্রান্তে, যা ইউরোপে তাদের কৌশলগত ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










