দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশগুলো যখন একে অপরকে ক্ষমা করতে পেরেছিল, তখন প্রশ্ন উঠছে — সাইপ্রাস সমস্যা কি সমাধানযোগ্য নয়? এই প্রশ্নকেই কেন্দ্র করে পরিচালক ডেভিড কাস্টিলোর নতুন ডকুমেন্টারি “Cyprus: The Divided Island” প্রিমিয়ার হচ্ছে এই সপ্তাহে।
পরিচালক জানান, “এটি কোনো ঐতিহাসিক বা রাজনৈতিক প্রামাণ্যচিত্র নয়, বরং দ্বীপবাসীরাই এখানে নিজেদের গল্প বলছেন।” মানুষের কণ্ঠই এই ডকুমেন্টারির আলাদা বৈশিষ্ট্য।

দুই নেতার সাক্ষাৎকার, এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
চলচ্চিত্রটির উদ্দেশ্য স্পষ্ট — এখনই সময় রাজনীতিবিদদের পদক্ষেপ নেওয়ার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে, বিশেষত ইউরোপকে, সমাধানে সহায়ক ভূমিকা পালনের। এজন্য পরিচালক কাস্টিলো দুই নেতাকে যৌথ সাক্ষাৎকারের প্রস্তাব দেন।
প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদৌলিদেস এতে রাজি হলেও, তুর্কি সাইপ্রিয়ট নেতা এরসিন টাতার তা প্রত্যাখ্যান করেন। কাস্টিলোর ভাষায়, “কেন? সেটা কেবল তিনিই জানেন।”
তবে তিনি গর্বের সঙ্গে জানান, গত ৫০ বছরে এটিই একমাত্র ডকুমেন্টারি যেখানে দুই সম্প্রদায়ের নেতা এবং জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি একসঙ্গে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
বিভক্তির বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা
২০১৬ সালে সাইপ্রাসে এসে দ্বীপের প্রতি প্রেমে পড়েন কাস্টিলো। তিনি বলেন, “গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়টরা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে বিভক্ত দ্বীপের বাস্তবতা প্রতিদিন মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছে।”
ডকুমেন্টারিটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানায় যেন তারা চোখ বন্ধ করে না থাকে। কাস্টিলোর মতে, “সাইপ্রিয়টদের বর্তমান স্থিতাবস্থার অধীনে বেঁচে থাকার কোনো প্রাপ্যতা নেই।”
তিনি বিশ্বাস করেন আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই — শুরু করার সেরা সময় এখনই। “যদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির অপরাধ ক্ষমা করা সম্ভব হয়, তবে কি সত্যিই আমরা বিশ্বাস করব যে সাইপ্রাস সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়?”

প্রিমিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডকুমেন্টারিটি সোমবার লেদ্রা প্যালেসে দ্বি-সম্প্রদায়ের দর্শকের সামনে প্রদর্শিত হবে। এরপর নেটফ্লিক্স ও এইচবিও’র মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
কাস্টিলো উপসংহারে বলেন, “৫০ বছর পরও সাইপ্রাস সমস্যা জটিল। তবে এখন অপেক্ষা নয়, কাজ করার সময়।”










